শিলিগুড়ি বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর লাগাম টানতে এবারে টাস্ক ফোর্স গঠন - The News Lion

শিলিগুড়ি বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর লাগাম টানতে এবারে টাস্ক ফোর্স গঠন

 


দি নিউজ লায়ন;   বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর লাগাম টানতে এবারে টাস্ক ফোর্স গঠন। স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকে মান্যতা দিতে হবে প্রতিটি নার্সিংহোমে। সরকারি চিকিৎসার গাইডলাইন করতে হবে রুগীর চিকিৎসা, রুগীর ওপর অনিয়ন্ত্রিত বিলের চাপ কমিয়ে বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আর এসব বিষয়গুলি নিয়ে এবার থেকে শিলিগুড়ি বেসরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসার নামে রুগী পরিবারের ওপর জুলুম ঠেকাতে নজর রাখবে টাস্ক ফোর্স এর কমিটি। 


 রবিবার জেলাশাসক ও নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে পুরনিগমে উচ্চ পর্যায়ের জরুরী বৈঠক হয়।বৈঠকে শিলিগুড়ি একাধিক নার্সিংহোম এর বিরুদ্ধে নিত্যদিন যে গুচ্ছের অভিযোগ সামনে আসছে তা নিয়ে আলোচনা চলে। পুরো প্রশাসক মণ্ডলীর সঙ্গে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পরও সুরাহা না মেলায় এবারে বেসরকারি  হাসপাতালগুলির বেপরোয়া বানিজ্যিক স্বার্থ সিদ্ধির ওপর কড়া হাতে রাশ টানতে স্বাস্থ্য ও জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের একাধিক বিভাগীয় আধিকারীকদের নিয়ে গঠিত এই টাস্ক ফোর্স কাজ করবে। পুর কমিশনারের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে  এই টাস্ক ফোর্স।


শহরের নার্সিং হোম গুলির ওপর নজর রাখবে। এদিন ফের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর অভিযোগ সামনে আসে। শহরের বেসরকারি হাসপাতালে পুর প্রশানসনের নির্দেশের পরও মান্যতা দেওয়া হয়না স্বাস্থ্য সাথী কার্ড। আলিপুরদুয়ার নিবাসী যুবক গোপী রাভা তার মায়ের চিকিৎসার খরচ বহন করতে জমি বিক্রি করে টাকা দেয় বেসরকারি হাসপাতালকে। তাতেও বিল মেটেনি ওই হাসপাতালের। তিনি জানান ১০ই মে তিনি তার করণা আক্রান্ত মাকে ভর্তি করেন শিলিগুড়ির বেসরকারী লাইফলাইন হাসপাতালে। সেখানে ১৬তারিখ পর্যন্ত তার হাতে ৩লক্ষ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিল মেটাতে আলিপুরদুয়ারে নিজের জমি বিক্রি করতে হয় ওই যুববকে। 


তবে এরপরও বিল তো মেটেনি বড় তার মায়ের শারীরিক থেকে কেমন রয়েছে সে খবর পর্যন্ত তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হচ্ছে না। তিনি কতটা সুস্থ হয়েছে সে বিষয়ে কোনো কথাই বলছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শিলিগুড়ি প্রধান নগর একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগের পর এদিন ফের সুখী পরিবারের সঙ্গে অভব্য আচরন মারধর করার অভিযোগ ওঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আর এ সমস্ত ঘটনার পরই বিষয়টি করা হাতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় শিলিগুড়ি পুরো নিগমের পুরো প্রশাসক বোর্ড। 


প্রশাসক বোর্ডের তরফে ফের বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় শিলিগুড়ি পুরো নিগমের এলাকায় থাকা প্রতিটি নার্সিংহোমে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকে মান্যতা দিতে হবে। করোনার চিকিৎসা ক্ষেত্রে সরকারের গাইডলাইন রয়েছে তা মানতে হবে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে। করণা রুগীগের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় বিষয়ে পরিবারকে জানাতে হবে। সরকারি নির্দেশিকা মোতাবেক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে চিকিৎসা বাবদ বিল।


 একইসঙ্গে এই শহরে আরো দুটি সেফহোম খোলার কথা জানানো হয়। শিলিগুড়ি পলিটেকনিক কলেজে একটি সেফহোম করা হচ্ছে। যার পরিচালনার দায়িত্বে থাকছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। একইসঙ্গে যীশু আশ্রমেও একটি সেফহোম তৈরি করা হচ্ছে। শহরের বনিক সংগঠন সেফ হোমে পরিচালনায় দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছেন। তারা বেসরকারি নার্সিং হোম এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে হোটেলে একটি সেফহোম করতে চলেছেন।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.